contact

thumrimag@gmail.com

প্রথম প্রকাশ ২৫ বৈশাখ ১৪১৮

নামাঙ্কন পূর্ণেন্দু পত্রী

বিজয়া মুখোপাধ্যায়

বুড়িচাঁদকে বলুন
(জীবনানন্দ দাশ সমীপেষু)

আকাশে লাল চাঁদ
তিনটে বেজে পাঁচ
টুকরো কুমড়ো-ফালি
ছোট্ট লেখার ছাঁচ।

‘বুড়িচাঁদ’কে বলুন
বিষণ্ণতার কালো
ওর কপালেই কেন
নিবছে ধূসর আলো!

আপনি যখন লেখেন
তখন কি এই ধস্ত
সময়ে, সঙ্কটে
সত্তা ও সন্ত্রস্ত?

পারলে, না-হয়, স্বপ্নেই
‘ফরসা-সকাল’ পাঠান।

রোজে আউসল্যান্ডার

তুমি এখানে, এখনও
(ভাষান্তরঃ সোমা রায়)

সকল ভীতি ছুঁড়ে ফেলো
হাওয়ায়

দ্রুত
সমাপ্তি হবে তোমার সময়
দ্রুত
স্বর্গ রচনা হবে
ঘাসের নিচে
আর, তোমার সকল সপ্ন
ঝড়ে পড়বে শূন্যে

এখনও কারনেসন্ সুগন্ধ ছড়ায়
দোয়েল ডাকে
এখনও তুমি ভালবেসে যেতে পারো
পাঠাতে পারো অক্ষর
তুমি এখানে, এখনও
তুমি যেমন, সেরকমই হও তুমি
তুমি দাও যা কিছু আছে তোমার।

(কবি রোজে আউসল্যান্ডার-এর নখ বিস্ট দু দা’-এর অনুবাদ, মূল ভাষা জার্মা)

কবি পরিচিতি - ইহুদি জার্মান কবি রোজে আউসল্যান্ডার-এর জন্ম ১১মে ১৯০১ সালে বুকোহ্বিনার চেরনোহ্বিস শহরে। ১৯১৯ সালে রোজে সাহিত্য ও দর্শন পড়তে শুরু করে, কিন্তু ১৯২১ সালে বাবার মৃত্যুর পর আর্থিক সংকট দেখা দেয় এবং পড়া ছেড়ে দিতে বাধ্য হন এরপর অন্য ইহুদিদের মত তিনিও আমেরিকা চলে যান এবং বিবাহ করেন সেখানেপরে মায়ের অসুস্থতার কারনে আবার ফিরে আসেন দেশে ১৯৩৯-এ তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ডের রেগেনবোগেন প্রকাশিত হয়, কিন্তু সমস্ত কপি-ইষ্ট করে দেওয়া হয় সরকার থেকে ১৯৪২ সালে নাসিরা অন্য ইহুদিদের মত মা ও মেয়েকে ঘেটো-তেন্দি করে। সেলে সেলে ঘুরে ঘুরে অত্যাচারিত হয়ে বেঁচে থাকেন। অনেক পরে প্যারিসে কবি পউল সেলানের সংস্পর্শে আসেন এবং রোজে নতুন আঙ্গিকে আবার লিখতে শুরু করেন আধুনিক জার্মান ভাষায়। ১৯৬৫তে ডুসেলডফ-স্থায়ী  ভাবে রয়ে যান। ৩ জানুয়ারী ১৯৮৮তে তাঁর মৃত্যু হয়।

ধীমান চক্রবর্তী


কথা -২
                                        

পায়ের নীচে আমার ভাঙ্গা চোখ আর আঙ্গুল পড়ে আছে
আমার না হয়ে এসব
কোনো রিসর্টেরও হতে পারে
ছম ছম চুড়ির আলোয়,গানে -ভেসে বেড়াচ্ছে
কয়েকটি চাঁদ

চন্দন কাঠের সাজানো বিড়াল চুপ
রে বসে বসে শোনে, হারানো টুপির
রঙ্গিন ট্রাফিক ও তার
গল্প। নিস্তব্ধতা ভেঙে কয়েকশো জানলা ঘরে ঢুকে পড়ছে
এই রাত্রিবেলা

শরীরের হাড়গুলো সোজা হয়ে বসে,
মেহেফিল ভেঙে শুষে নেয় মেতে ওঠা হারানো
পাখি
সবুজ পাতার খোলা আলজিভইউনিফ্যর্ম পড়ালো সোনামনি কমলা
লেবুতেও

আমাদের শিশুরা সাদা জামার ভিতর ডুব দিয়ে কথা বলতে চায় পোষ মানানো
গানের সাথে
ঘুমিয়ে পড়া ভাঙাচোরা ছায়াগুলির সাথেও

অঞ্জলি দাশ


লঙশট


সামান্য ভেজানো, যেন অপেক্ষায় আছে কেউ
যেন আলতো নিশ্বাস লেগে সামান্য ফাঁক হলো ঠোঁট,
ভেতরে সাদা মেঘের কুচি
হাসবে কি হাসবে না ভাবতে গিয়ে স্থিরচিত্র।

সামনে সারি সারি সম্পর্ক সাজানো দেখে
বুকের ভেতর কান পেতে আছে
সেখানেই কাটাকুটির ছক নিয়ে বসে থাকে সময়
এক হাতে খোলা কলম, অন্য হাতে উদ্যত ঢাকনা
আনাড়ির মতো ক্রসচিহ্ন দিতে দিতে ক্রসিং পেরোলো...
আগাগোড়া ভুল রাস্তা,
অন্ধকারের  অন্যপারে ঘর আছে কি না বোঝা গেল না।

সংযুক্তা বন্দ্যোপাধ্যায়


সেতু


ভয় যাদের পিছু নিয়েছে
পিছু নিয়েছে
নতুন সেতুর ধারে উন্মাদের হাসি

নিজেকেই ভাঙা ও মোচন করা ছাড়া
আর কী তাদের আছে, গঙ্গাজল,

তুমি শুধু বন্ধু হয়ে থাকো...

তাপস রায়

রবিঠাকুরের গান

তুমি গান মেলে দিলে, বাঁকানো গ্রীবার উচ্ছ্বাসমাখা গান
আমার ভেঙেওঠা আলোছায়া জুড়ে, অভিমান জুড়ে
আমার বালক বয়স থেকে যেসব নক্সীকাঁথায়
ওম্ জমা ছিল, অজানা অক্ষর ছিল - সব দুলে ওঠে
ছইয়ের নৌকোখানি জানবে না এ তার ভাসান    

জ়লের ছলাত্ ধরে ওই যে জীবনের সুর হয়ে ওঠা
তার কতটা অপাপ বাণী আমি জানি
এই এতসব সন্ধ্যারাগ, উপচে পড়া বসন্তের হাওয়া
আমার রঙের কাছে এমন আদর হয়ে ফুটে আছে
‘আমার হৃদয় দুয়ার’ খুলে ফেলবার আয়োজন আছে
সৌন্দর্য শিক্ষাহীন আমি তার পুনর্চিত্রণ সত্যি ভাবিনি

আমার ভয়ের সম্পাতে জল হা হা করে হাসে -
চিত্রকল্প ঠেলে নিয়ে কোথায় সে রেখে দেবে
সেই গোল টিপ্, সন্দেহবিহীন ঘোমটার স্নিগ্ধ রূপটান
এই অল্পবেলায় আমি জোয়ার ডিঙিয়ে ফের
খুঁজে পাবো!কিছুই জানি না, নৌকো ভাসে, পালে
লেগে আছে জ্যোত্স্নার মতো ‘মন্দ মধুর হাওয়া’ সন্ন্যাসে

চৈতালী চট্টোপাধ্যায়


আবারও রবীন্দ্রনাথ


গানের কিছুই বুঝি না-
কিন্তু সাতটা চল্লিশে, সঞ্চারি শোনার শেষে,
মাছকাটা বঁটিতে যেমন রক্ত লেগে থাকে
তেমনই আবার চোখ লাল হয়ে উঠবে।
তখন চট করে, আমি আবেগ ধুয়েমুছে ফেলে,
স্থানীয় সংবাদ শুনব,
খুন ও ধর্ষণকথাগুলো, নোনতা বিস্কুটের মত চায়ে ভিজিয়ে নিয়ে খাবো
তারপর, রোজকার কাজকর্ম,
তারপর, সন্ধেবেলা
ফেসবুক খুঁটে মিথ্যে-মিথ্যে বন্ধু সংগ্রহ করা!
রাতের আড়ালে, শুধু,
ঘেঁসাঘেঁসি পাশের বাড়ির, এফএম-এ
সুবিনয় রায়, যদি, ‘নির্জনে সজনে...’ ধরেন,
আবার কেলেংকারি হবে

সাইফুল্লাহ মাহমুদ দুলাল


নাছোড়

দীঘল দীর্ঘ দৈর্ঘে প্রস্থে আমাকে ছাড়িয়ে যায় উচ্চতায় এবং দূরত্বে
আলোর বিপরীতে অবস্থান। কিছুটা অভিনয়, কিছুটা অনুকরণ।
অদ্ভূতুড়ে পিশাচবন্ধু! কখনো নেতিয়ে থাকে পায়ের চাকায়,
              ..চাপা পড়ে শূন্য ডিগ্রির গ্রীনিচ ঘড়িপর্ব।
সবাই সবকিছু ছেড়ে গেছে, যাবে। একদিন নিজেও নিদ্রাপাঠে যাব,
তবু নাছোড় থাকবে ঘুমহীন, গণিতে।

ঈশিতা ভাদুড়ী

রবীন্দ্রনাথ

এই যে মেঘ-ভাঙা-বৃষ্টি
আর, ঝলক বিদ্যু
দিয়েছো আমায়...
এই যে এক চিলতে আকাশ
ফাঁকে ফাঁকে বৃক্ষ সারি
দিলে আমায়...
তোমাকে কি দেবো আমি?

এই যে ধূ-ধূ মাঠ
আর, গোধূলি বেলার আগুন আকাশ
দিয়েছো আমায়...

বিশ্বজিৎ রায়

আপনার গান
(রবীন্দ্রনাথ-কে নিবেদিত)

প্রেমে ও পুজাতে
প্রতিবাদে-মিছিলে
মৃত্যু ও উসবে, আপনার গান
ঘরে-ঘরে, মাঠে-ময়দানে বাজে -
মধ্যরাতে, আলো-অন্ধকারের ছায়াপথে
নিঃসংগ মনের ব্যালকনিতে একা একা
হৃদয় খুলে বাজে...

সন্তর্পনে চশমা খুলে
আপনার গান, কখনো বিশ্রামে ঘুম পাড়িয়ে দেয়
কখনো বা গভীর ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলে আলতো টোকায়,--
সমস্ত বিশৃংখলাকে সম্মোহনে শৃংখলিত করে,
বন্ধ খাঁচা থেকে পাখি উড়িয়ে
রঙ-হীন, ফ্যাকাশে ঘরকে সুরে-সুরে রঙ্গিন করে তোলে...

আপনি এ-যুগের নাইটক্লাব,
ডিস্কোথেক, মাল্টিপ্লেক্স, পাঁচতারা হোটেল দেখেননি,
যেখানে গমগম করে বাজে উল্লাসের গান -
যার বিপরীতে ধ্যানমগ্ন  
অনিন্দ্যসুন্দর, আপনার গীতবিতান,
আজও
অনন্ত জীবনের, অজেয়-অম্লান ...

ঠাকুরদাস চট্টোপাধ্যায়


বৃক্ষের দাম্পত্য

নীলু হাড়ি বকুলগাছ

ডেবোখালির শ্মশানের পাশেই
বকুলগাছ
একটু দূরেই নীলু হাড়ির বাড়ি
সন্ধ্যা নামলে
বকুলগাছের তলায় হ্যারিকেনের আলোয়
রামায়ান পড়ছে সে
তন্দ্রামগ্ন বকুলগাছ ডুবে যাচ্ছে
তার সঙ্গে আরো চার পাঁচজন প্রতিবেশী
ডুবে যাচ্ছে অন্ধকার
আলো জ্বেলে বহুদূর থেকে
কারোর আসার দৃশ্য জ্বলছে নিবছে
ক্লান্ত একজনকে আজো নিয়ে চলে মগ্নতার কাছে

নক্ষত্র-জ্বলা আকাশে স্বপ্ন ওড়ে কত শত
আমি কতদিন স্বপ্ন দেখেছি
অথচ স্বপ্নে নীলু হাড়ি নেই
বকুলগাছ নেই
আলো জ্বেলে বহুদূর থেকে তার হেঁটে আসা নেই
শুধু ডেবোখালির শ্মশান আগুন জ্বেলে বসে আছে

বিশাল ভদ্র

একটা কাজ বাকি আছে


প্রত্যেক খুনের পিছনে মোটিভ থাকে । যতই পেশাদার হোক হত্যার পর যাবার সময় কিছু না কিছু ক্লু ফেলে যায় সেইসব ফেলে যাওয়া জিনিসের মধ্যে থাকে খুনির ছোঁয়া, শরীরের গন্ধ, আঙুলের ছাপ – কিছু উত্তরাধিকার, খুনের পর খুনি আবার ফিরে আসে খুনের জায়গায়। কাল হোক, পরশু হোক, আসবেই। গত চৈত্রের দুপুরে আমাকে খুনের পর খুনি তার সব প্রমান নিয়ে চলে গেছে। এমনকি তার দেয়া উপহার, চিঠিপত্র, কিছু স্মৃতি অন্তরঙ্গ পহেলগাঁও, - সাগরের ঝাঊছায়া ধুয়েমুছে নিয়ে গেছে । ফলে কোনো স্নিফার ডগ, ফরেন্সিক বিশেষজ্ঞ সূত্র খুঁজে পায়নি। খুনিও ধরা পরেনি । যে জানে খুনি কে, পালিয়ে কোথায় গেছে, তার চেহারার নিখুঁত ছবিও পারে এঁকে দিতে, সে আমি । খুনের মোটিভ, দোষী প্রমানের জন্য যা খুব জরুরী, তা জানে শুধু একজন। আমি। বর্তমানে মৃত। সারাজীবন বুকের মধ্যে রক্তক্ষরন। এতবার খুন হয়েছি যে একফোঁটা রক্তও এখন বাইরে কোথাও পড়ে না। অনেকেই চেয়েছিন অন্ত্যেষ্টি করতে। পরে স্মরণসভা। রাজি হইনি। একটা কাজ বাকি থেকে গেছে। তাই সেই খুনের জায়গায় নিজের মৃতদেহ আগলে বসে আছি। একটু পরেই পচন ধরবে, মাছি, কুকুর আসবে। দুর্গন্ধ ছড়াবে – খুব কাছের মানুষেরা মৃত্যুর পর আর কাছের থাকে না, নাকে কাপড় চাপা দিয়ে দূর থেকে আমার একগুঁয়েমির জন্য খিস্তি দেবে। তখন আমি আরো কয়েকবার খুন হব, কিন্তু মৃত্যুর পর মৃতের কোনো বোধ থাকে না, আমারো নেই। কে কি মন্তব্য করল, জীবিত অবস্থায় সে কতটা আপন ছিল সে নিয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবার সময় এখন নয়। একটা কাজ বাকি থেকে গেছে। অনন্তকা আমি আমার পচাগলা, প্রিয় মানুষদের মন থেকে মুছে যাওয়া  মৃতদেহ নিয়ে আপেক্ষায় থাকব। কারণ একদিন না একদিন হত্যাকারী ফিরে আসবেই। তখনি বাকি কাজ শেষ করব, চিরকুট লিখে। তোমায় এখনও ভালবাসি।

রোহণ কুদ্দুস


১৭ই ফেব্রুয়ারি ১৮৯৯

চৌহদ্দির মধ্যে কখনও কখনও কষ্ট দানা বাঁধে
ভূকম্পনের স্বপ্ন দেখি আমরা মৃত্যুর নির্দেশ মত
ঘন পিচ গাছের নিচে দাঁড়িয়ে অন্য কোনও একজন
অভিনেতার মত হয়ে পড়ি বাদামী ওভারকোট গায়ে

নিয়ম অনুসারে জাতীয় পাখি বা ফল নির্বাচন প্রকল্পে
প্রধানমন্ত্রী গ্রাম বিকাশ যোজনার অর্থ তছরুপ করে
মাঠের পর মাঠ পালিয়ে যেতে থাকে একটার পর
একটা অভিযোগের শিরোনাম           সারা পৃথিবীর প্রজন্ম
আলো বন্ধ করে ভবিষ্যত মানুষকে জানান দেয় জেগে আছি
গোষ্ঠী কোন্দলের পরেও কওমের নামে আমরা সদাসতর্ক

বুকের মধ্যে চৌহদ্দি দানা বাঁধে অক্ষয় প্রাচীর ভঙ্গুর কাঁকর
গড়িয়ে যায় এদিক ওদিক শূন্য আসনের পাশ থেকে
উঠে দিনের শেষ যাত্রীরা সমবেত হয় স্বপ্নের চিত্রনাট্য
মোতাবেক ধীরে ধীরে তখন নামানো হচ্ছে আমার ক্যাসকেট

অনুপম মুখোপাধ্যায়


স্নেহপদার্থ

ভালোবাসায় ভালোবাসার অ্যাম্বুলেন্স নেই 
আমার ওষুধ নেই 

একমুঠো ট্যাবলেট লাফিয়ে উঠছে 
ভুলে যাচ্ছে মরুবিজয়ের ক্লান্তি 

কে বলেছিল হাস্যকর হাসিগুলোর কথা 

হাত বাড়িয়ে তুলে নিচ্ছি স্নেহপদার্থ 
নামিয়ে রাখছি টের পাওয়ার আগেই

রঙ্গীত মিত্র

স্ট্যাটাস মেসেজ


আমার ব্যাগের ভিতর এখনো বিকেল জমে আছে ;
কোল্ডড্রিং
ক্সের দোকানের সামনে তোমার নীল টিশার্টে
আটকে থাকে কোনোদিন ।
আমি শহরের বিশাল বিশাল স্ক্রীন পার হয়ে দেখি
এখনো সময়টা শেষ হয়নি
বরং বারোতলার বাড়ির পাশের থেকে রোলের দোকান
যেখানে বাস না থামার হলেও থামে
বাড়িগুলো বসিয়ে দেওয়া স্বর্গের মত ।
একটা সাপ তোমার কালো জিন্সের দিকে মুখ না ঘুরিয়ে, বুঝে যায়
অনিন্দ্য আর সুচেতা প্রেম করছে
মুখের থেকে,এমন  কি একটা ডট পেনের থেকেও  ছোট সিগারেট
যদিও আমি আমার ব্যাগটা হোস্টেল করে রেখেছি
সে ফুটপাথ পাশে রেখে বিস্কুটের দোকানে ক্যাডবেরির বিস্কুট কেনে
আমুল কুল খায় ; গোল্ডফ্লেক খায় ; আগুন দড়িতে ঝুলতে থাকে । এখানে গাছের ফেলে যাওয়া
ডাল দিয়েতোমাকে স্পর্শ না করলেও বুঝতে পারি কেমন রাতের দিকে চলে যাচ্ছি
যেরকম,সিমেণ্টের চেয়ারেও ফাটল ধরে ;
একজন দুজন এইভাবে সবাই আমাকে ভুল ভেবে অফলাইন হয়ে যায় কিম্বা রিপ্লাই দেয় না
আমি একটা পোকাকে খুব মন দিয়ে  পাতা খেতে দেখি
 
ওয়ার্ল্ড কাপ খেলে বন্ধের রাস্তা।এই রাস্তা দিয়েই গেলে একদিন ঠিক তোমার সাথে দেখা
হবে